Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সিটিজেন চার্টার

ভূমিকা:

 

১২ই নভেম্বর/ ১৯৭০ তারিখে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বরিশাল,পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা জেলা সমূহের উপকূলবর্তী অঞ্চলে যে প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড় আঘাত হানে তাতে বেসরকারীভাবে প্রায় ৫ লক্ষ লোকের প্রানহানি ঘটে এবং বিপুল সহায় সম্পদের ক্ষতি সাধিত হয়। তখন জাতিসংঘের নির্দেশে তৎকালীন লীগ অব রেডক্রস ক্লাস হেগস্ট্রম নামক এক সুইডিস ভদ্রলোককে এদেশে পাঠায় প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে এত মানুষের জীবন হানি কিভাবে রোধ করা যায় তার একটা উপায় খুজে বের করতে। হেগস্ট্রম সাহেব উপকূলীয় এসব ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চল ভ্রমন করে ও জনসাধারনের সাথে মত বিনিময় করে উপলব্ধি করেন যে , ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত আগাম সতর্ক সংকেত সম্পর্কে যথাযথ প্রচার না থাকায় ও সাধারন মানুষের এ সম্পর্কিত কোন জ্ঞান না থাকাতেই এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন হানি ঘটেছে। এ উপলব্ধি থেকেই তিনি উপকূলীয় এসকল জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত যাতে জনসাধারন ঠিকমত পায় ও সেই মত তারা নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য পথ খুজে পায় সেই ব্যবস্থা করতেই স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে  ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী বা সি পি পি এর পত্তন করেন। প্রথমে তিনি উপকূলীয় কক্সবাজার , চট্টগ্রাম, ফেনী , নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ভোলা , পটুয়াখালী, বরিশাল, বরগুনা এই জেলাগুলোর উপকূলীয় উপজেলাসমূহে সি পি পি এর কাজ শুরু করেন। অত:পর ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর কর্মসূচীর কার্যক্রম পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া ও  বাগেরহাট জেলার  শরনখোলা উপজেলায় সম্প্রসারিত হয়। সর্বশেষে ২০০৭ ও ২০০৯ সালের সিডর ও আইলা ঘূর্ণিঝড়ের পরে তা আবারও সম্প্রসারিত করে বাগেরহাটের মংলা , খুলনার দাকোপ ও কয়রা  এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলাতেও চালু করা হয়।

 

১৯৭২ সালে তৎকালীন লিগ অব রেড ক্রসের নেতৃত্বে এটার পত্তন ঘটলেও ১৯৭৩ সালে যখন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যেতে থাকে , তখন তৎকালীন বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটি বাংলাদেশ সরকারের সাথে যোগাযোগ করে এবং তৎকালিন বাংলাদেশ সরকার এর যাবতীয় চলতি খরচ বহন করার অঙ্গীকার করত : রেড ক্রসের সাথে একটা চুক্তি করে এবং তখন থেকে সি পি পি বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটা যৌথ কর্মসূচী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে এবং এভাবেই কর্মসূচীর কাজ চলতে থাকে। অত:পর ২০০৪ সালে উপকূলীয় জনসাধারনের জীবন রক্ষার্থে  সি পি পি এর গুরুত্ব অনুধাবন করে বাংলাদেশ সরকার সরাসরি সি পি পি কে চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করে এক পরিপত্র জারি করে এবং তখন থেকে সি পি পি মূলত: বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি একটা অংশীদার হিসাবে এখনও সি পি পি কে নানা রকম লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট করে থাকে।

 

সি পি পি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে এখানে : www.cpp.gov.bd

এ ছাড়াও সি পি পি সম্পর্কিত আরও তথ্য পাওয়া যাবে এখানে : www.dmrd.gov.bd

 

বরগুনা জেলায় সি পি পি এর কার্যক্রম

 

বরগুনা বাংলাদেশের একটি দুর্যোগ প্রবন এলাকা। বিভিন্ন বছরে অত্র এলাকায় সামুদ্রিক ঝড়ে দেশের অন্যান্য সামুদ্রিক এলাকার মত বরগুনায় ব্যাপক জান মালের ক্ষতি হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কর্তৃক যৌথ ভাবে পরিচালনায় এলাকার জান মালের ক্ষয়ক্ষতি লাঘবের জন্য অত্র কর্মসূচী ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সংবাদ প্রচার, জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম, ঘূর্ণিঝড়ের সময় জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয় প্রদান, ঘূর্ণিঝড় উত্তর উদ্ধার, অনুসন্ধান, প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম করে যাচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম করে থাকে।

 

            একনজরে বরগুনা  জেলার বিভিন্ন কার্যক্রম নিম্নে দেয়া হলঃ

 

·        বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গ্রাম পর্যায়ে আগাম প্রস্ত্ততিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর  কর্তৃক জারিকৃত ঘূর্ণিঝড় ও  জলোচ্ছ্বাসের সংকেত জনসাধারনের মধ্যে প্রচার করা ।

 

·        প্রয়োজন মুহূর্তে জনগণকে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণে সহায়তা দান।

 

·        দুর্যোগে বিপদগ্রস্ত লোকদেরকে উদ্ধার।

 

·        দুর্যোগে আহতদেরকে জরুরী প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা দান।

 

·       গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ প্রস্ত্ততিমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

 

·        উপকূলীয় জনগনের দুর্যোগে পরস্পর পরস্পরের সাহায্য ও সহযোগিতা দানে উদ্বুদ্বধকরণ।

 

·        দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন কাজে সহায়তা দান ।

 

                          জনগণকে দুর্যোগ সম্পর্কে বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে সচেতন করে তোলা।